এবারের ঈদে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত কয়েকটি নাটক নিয়ে লিখেছেন জাহীদ রেজা নূর, শওকত হোসেন, সাইদুজ্জামান রওশন, কবির বকুল, পল্লব মোহাইমেন, ফিরোজ জামান চৌধুরী, সিমু নাসের ও ইকবাল হোসাইন চৌধুরী


কক্ষপথে মন
ঈদের অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে একটি চ্যানেলে জনপ্রিয় একজন অভিনেতার সাক্ষাৎকার দেখছিলাম। তাঁর বেশ কয়েকটি নাটক এই কদিনে প্রচারিত হয়েছে। শুনলাম, তিনি বলছেন, আজকালকার নাটকের কারিগরি মানের অনেক উন্নতি হলেও গল্পের অবস্থা বেশ খারাপ। প্রায় সব নাটকের গল্পই এক রকম মনে হয়। এ কথাটা মাথায় রেখে দেখতে বসেছিলাম আলভী আহমদের নাটক কক্ষপথে মন। প্রচারিত হয়েছিল দেশ টিভিতে।


নাটকের শুরুটাই বলে দিল, এটা ঠিক গতানুগতিক গল্প নয়। সরাসরি গল্পে না ঢুুকে নাটকের চরিত্রগুলো, তাদের মানসিকতা এবং গল্পটা যেখানে আবর্তিত হচ্ছে, সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। নিম্নবিত্তরা থাকে এলাকাটিতে। সেখানেই সাময়িক সময়ের জন্য বাধ্য হয়ে থাকতে আসেন দীপা ও কায়সার দম্পতি। সুন্দরী দীপা (তিশা) সবার মনোযোগ কেড়ে নেন। রেডিও-টেলিভিশন মেকানিক সেলিম (শহীদুজ্জামান সেলিম) কিংবা বাড়িওয়ালা মিঠু ভাই দীপার মনোযোগ পেতে প্রতিযোগিতায় নামেন। দীপার স্বামী বাজারে যান না, এমনকি দোকান থেকে সিগারেট আনতেও অনীহা। অন্যদিকে ‘গা বাঁচিয়ে কীভাবে ছেলেদের নাচাতে হয়’ তা ভালোই জানেন দীপা। পরনারীর প্রতি আকর্ষণ টের পেয়ে দুজনকেই ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন দীপা। সামান্য একটু ছোঁয়া কিংবা খানিকটা ইঙ্গিতেই কাজ হয়ে যায়। ফলে দীপার বাজার করে দেওয়া কিংবা মাথায় করে নষ্ট টেলিভিশন দোকানে নিয়ে যেতে দেখা যায় তাদের। মেকানিক সেলিম কত দূর এগোনো যাবে, কল্পনা করেন আর ছেলের পাশে ঘুমন্ত স্ত্রীকে জাগাতে চেষ্টা করেন। দীপা যখন চায়ের পাতা আনতে বলেন, রাজি হয়ে যান সেলিম, কিন্তু দীপার স্বামীর সিগারেট আনতে বললে অপমানবোধ কাজ করেন। দ্রুতই সেলিম বুঝে ফেলেন, দীপার এই কাজে সমর্থন আছে স্বামীর।


এই হচ্ছে কক্ষপথে মন-এর গল্প। মোটেই গতানুগতিক গল্পের নাটক বলা যাবে না। এর বাইরে এসে কেউ কেউ যে সাহস ও পরিপক্বতা দেখাচ্ছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেল নাটকটি দেখে। সমাজে অনেক কিছু ঘটলেও সেসব যেন নাটক-সিনেমায় উচ্চারণ করা নিষেধ। সেদিক থেকে এই নাটক অনেকটাই সাহসী। তিশাও এ ধরনের একটি চরিত্রে অভিনয় করতে সাহস দেখিয়েছেন এবং যতটা সম্ভব নারীলোভী পরপুরুষকে ব্যবহার করার ছলাকলাগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন। ক্যামেরাও সাহসের সঙ্গে তিশাকে অনুসরণ করেছে। ভালো লেগেছে শহীদুজ্জামান সেলিমের অভিনয়। গতানুগতিকতার বাইরে ব্যতিক্রমী এ নাটকটি দেখতে খানিকটা অস্বস্তি লাগে। এই অস্বস্তি নাটকের গল্পের জন্য নয়, বরং আমাদের সমাজে এ রকম ঘটছে, এটা উপলব্ধি করে।


রঙিন শাড়ি
শাড়ি কাপুড়...। ঢাকাই শাড়ি, সুতি শাড়ি, জামদানি শাড়ি ফেরি করে ফেরে রাহেন মোল্লা। মা-বাবা নেই, এতিম। সচ্ছল গেরস্ত গ্রাম-সম্পর্কের চাচা-চাচিই তার মা-বাবার অভাব যেন পূরণ করে দেন। শাড়ি ফেরি করতে করতেই অন্য গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে চোখাচোখি। মেয়েটিরও মা-বাবা নেই। মামার বাড়িতে বড় হয়েছে। মামা-মামি মেয়েটির পাত্র হিসেবে বেছে নেন রেহান মোল্লাকে। রঙিন শাড়ি পরে মেয়েটি বউ হয়ে আসে। চাচার বাড়ি গরু ‘বুদি’ সরল মেয়েটির যত্নআত্তি হয়। স্বামী-স্ত্রীর দারুণ মিল। রেহান আর শাড়ি ফেরি করে বিক্রি করবে না, একদিন তার নিজের দোকান হবে, এমন স্বপ্ন দেখায় মেয়েটি। রেহানের পরিবারে নতুন অতিথি আসার আভাস মেলে। অন্তঃসত্ত্বা হাসিখুশি মেয়েটি পুকুরঘাটে স্বামীর সঙ্গে মজা করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যায়। স্বপ্নভঙ্গের শুরুটা এখানে। অপরদিকে বুদিও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বুদি সুস্থ হয়ে উঠলেও মেয়েটি ভুগে ভুগে মারা যায়। তবে মেয়েটির স্বপ্ন পূরণ হতে দেখা যায়, রেহানের নিজের দোকান হয়। কিন্তু দিনশেষে নিজের ঘরে এসে রেহান মোল্লার নিঃসঙ্গতা বাড়তেই থাকে। শুধু রঙিন স্মৃতিগুলোই যেন রেহানের সম্বল।
শাহনেওয়াজ কাকলীর রঙিন শাড়ি নাটকটিতে স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ আর বেঁচে থাকার বাস্তবতা উঠে আসে এমন করেই। চ্যানেল আইতে প্রচারিত এ নাটকের মূল গল্প শেখ জহিরুল হকের। কম বয়সী একটি মেয়ের রঙিন স্বপ্ন নাটকে ডানা মেলে রঙবেরঙের শাড়িতে। দৃশ্যায়নে এ ব্যাপারটা ভালোভাবেই বোঝা গেছে। অভিনয় করেছেন প্রাণ, অপর্ণা, শহীদুল আলম সাচ্চু, মোমেনা চৌধুরীসহ অনেকেই।


মায়া এবং মৃত্যুর গল্প
প্রথমে দর্শনধারী, তারপর গুণবিচারি—এ রকমই একটা দৃষ্টিকোণ থেকে নাটকটি দেখা। দর্শন বিচারে প্রথমেই আসে কারিগরি দিক। লোকেশন নির্বাচন, ক্যামেরা, আলো—অমিতাভ রেজার প্রায় সব নাটকেই এ বিষয়গুলোতে মুনশিয়ানার ছাপ পাওয়া যায়। এবার ঈদের তৃতীয় দিন রাতে এনটিভিতে প্রচারিত মায়া এবং মৃত্যুর গল্প এর ব্যতিক্রম নয়।
মায়া এবং মৃত্যুর গল্প নাটকটি চমৎকার নির্মাণের জন্য নাট্যকার এবং পরিচালক অমিতাভ রেজাকে একটা ‘ধন্যবাদ’ দিয়ে এ নাটকের আলোচনায় যাই।


নিতুকে না পেয়ে আত্মহত্যা করে শোভন। পুত্র হারানোর শোকে পাথর শোভনের মা। তবুও নিতুর প্রতি স্নেহ-ভালোবাসার কমতি নেই তাঁর। ছোট ছেলে ছোটনকে দিয়ে নিতুর জন্য পায়েস রান্না করে পাঠান তিনি।স্বামীর সঙ্গে ঢাকা চলে যাচ্ছে নিতু। যাওয়ার পথে সে দেখা করতে আসে শোভনের মায়ের সঙ্গে। এ বাড়িতে তাঁর ছেলের বউ হয়ে যে আসবে, তার জন্য শোভনের মা খুব যত্ন করে কিছু অলংকার রেখেছিলেন। সেই অলংকার তিনি তুলে দেন নিতুর হাতে—এ রকম ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় মায়া এবং মৃত্যুর গল্প।


আগে ধন্যবাদের কাজটি শেষ করি। এ তালিকায় প্রথমেই রাখতে হচ্ছে জয়াকে; নিতুর চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয়ের জন্য। দাগ কেটেছে আরেকজনের অভিনয়; ছোটন চরিত্রে কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। অভিনয়ে প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। আর মায়ের ভূমিকায় নার্গিস আক্তার আর শোভন চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরী যথাযথ। আর চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামানের জন্য রইল বিশেষ ধন্যবাদ।
তবে নাটকটি দেখতে গিয়ে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হতে হয়েছিল, এর একটি হলো শব্দ প্রক্ষেপণ। এ সমস্যার কারণে কখনো কখনো সংলাপ বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হয়েছিল। আর গল্প বলার ক্ষেত্রেও অমিতাভ রেজার এগিয়ে যাওয়ার পথটা সরল ছিল না। মনে হয়েছে, তিনি যেন ইচ্ছে করেই দর্শকদের একটা ধাঁধার মধ্যে রেখে আরও গভীরে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিজ্ঞাপনচিত্রের উৎপাতে টিভি নাটকের দর্শকের কি এত গভীরে ঢোকার জো আছে? যদিও দর্শক সহজভাবে বলাটাই বেশি পছন্দ করে। তার পরও গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে অমিতাভ রেজার মায়া এবং মৃত্যুর গল্প অনেকটাই কামিয়াব।


নকশীকাঁথা
নকশীকাঁথা নাটকের কাহিনি নতুন কিছু নয়, এ ধরনের নাটক আগেও দেখেছি আমরা। গরিব পরিবার, অভাবের সংসার, কিছুটা সচ্ছলতার সন্ধানে স্বামীর গৃহত্যাগ, অপেক্ষায় থাকা স্ত্রী, ভালো লাগার মানুষের আবির্ভাব ইত্যাদি ঘটনা, যা ধাবমান সময়ের যেকোনো বিন্দুতেই সত্য। মানুষের ব্যাখ্যাহীন মনোজগতের বয়ানই এই নাটক। পুরোনো, তবু নতুন।
মাতিয়া বানু শুকুর গল্প বলার মুনশিয়ানাই নাটকটি নিয়ে লিখতে বসার কারণ। সাধারণ কাহিনির নাটকটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন কিছু অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করেই। স্বামী, স্ত্রী, প্রেমিকপুরুষ, বেদেনি—এসব মূল চরিত্রের পাশাপাশি গ্রামের কাঁথা সেলাই করা মেয়েটিকে কাহিনিতে স্থান দিয়ে নাট্যকার আসলে এই আগ্রহ তৈরি করার কাজটি এগিয়ে দিয়েছেন। নির্দেশক তা গুছিয়ে বলতে পেরেছেন। আমি তো বলব, দুই বাচ্চার মা, গ্রামের অসহায় এই মেয়েটির কথাস্রোতেই গ্রামীণ জীবনের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় উঠে এসেছে নাটকে, মানুষের জীবন যে সরলরৈখিক নয়, নানা টানাপোড়েনে তা বহুমুখী হয়ে ওঠে, তারই বাস্তব চিত্রণ দেখা গেছে।
মানুষকে সাদা-কালোয় ভাগ করে ফেলার একটা প্রবণতা আছে আমাদের। যাকে পছন্দ করি, তার সবকিছুতেই থাকে সাদার ছাপ। অপছন্দের মানুষটি অন্ধকারের প্রতিমূর্তি। মানবজীবনকে এ রকম সরলীকরণ করা যে ঠিক নয়, সে কথা আমাদের মনেও থাকে না। একই মানুষ ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন রকম আচরণ করে, এটা তো আমরা জীবনাচরণ থেকেই দেখতে পাই। সে কারণেই নকশীকাঁথা নাটকের স্বাগতা, সজল কিংবা কূটনি বুড়ির মতো কথা বলা মেয়েটির শরীরে আমরা ভালো-মন্দের লেবাস লাগিয়ে দিতে পারি না। নীতিবোধ, ঔচিত্যবোধকে ধারণ করেই জীবন এগিয়ে চলবে, এ রকম সহজ সমাধানেরও তাই প্রয়োজন পড়ে না। নাট্যকার বা নির্দেশকের চেষ্টাও ছিল না কাউকে মহীয়ান করা কিংবা কারও শরীরে কালিমালেপনের। তাই স্বাভাবিক গতিতেই এগিয়েছে কাহিনি। বিষয় বোঝানোর জন্য অযথা সংলাপ কিংবা আরোপিত দৃশ্যের ‘আবির্ভাব’ ঘটেনি কখনো। এই জায়গায়ই বাহবা পেতে পারেন মাতিয়া বানু শুকু। স্বাগতা নামের মেয়েটির অভিনয়ে পরিপক্বতার আভাস আছে। সজলকেও যথেষ্ট উচ্ছল মনে হয়েছে। চরিত্রের দাবি মিটিয়েছেন দুজনই। স্বাগতার স্বামী কাহিনিতে ছিলেন অল্পক্ষণ, কিন্তু তাতেই স্বাভাবিক অভিনয়ে মন ভরিয়েছেন দর্শকের। কূটনামিতে দক্ষ মেয়েটি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যেভাবে নিজেকে পরিবর্তন করে নিচ্ছিল, তাতে সত্যিই চরিত্রটির প্রতি এবং সেই চরিত্রে অভিনয় করা মানুষটির প্রতি আগ্রহ জন্মে। শুকু যে ডিটেইল এড়িয়ে যান না, তা বোঝা যায় মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে ফিরে আসা বাচ্চা ছেলেটি যখন তার ছোট ভাইটিকে জড়িয়ে ধরে। কত দিন পর দেখা হলো দুই ভাইয়ের!
বেদেনির বিষয়টি আরেকটু ভালোভাবে আসতে পারত নাটকে। বেদেনি সজলের বিষয়টিকে বরং পুরো নাটকের মধ্যে দুর্বল বলা যায়। আরেকটি কথা, স্বাগতার মনের ভেতরের ঝড়টি যদি আরও ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়া যেত দর্শকদের, তাহলে আরও নিবিষ্টমনে, আরও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে দর্শক ঢুকে যেতে পারত কাহিনির ভেতর।
নাটকটি ঈদে প্রচারিত হয়েছিল বৈশাখী টিভিতে।


ঝগড়ালি
এটিএন বাংলায় শুরু হলো নাটক ঝগড়ালী। তাও আবার দুই ঝগড়ালি নারীর গল্প। এমনিতেই আমরা ঝগড়া দেখতে অভ্যস্ত। আর দুই নারীর ঝগড়ায়ও আমরা এখন আর কোনো আপত্তি করি না। সুতরাং বেশ আয়েশ করেই বসলাম ঝগড়া দেখতে।
মামুনুর রশীদের এ নাটকটি হাস্যরসাত্মক। ‘স্যাটায়ার’ ও ‘এনটারটেইনমেন্ট’ দুটোই আছে। সালেহা ও আফরোজার গল্প। তাঁরা পেশাদার ঝগড়ালি। অর্থের বিনিময়ে কারও পক্ষে ঝগড়া করে আসেন। আর এভাবেই তাঁরা জড়িয়ে পড়েন গ্রামের নানা ঘটনার সঙ্গে। পেশায় প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সালেহা ও আফরোজার মধ্যে বেজায় সদ্ভাব। ফলে কঠিন কাজে ‘সিনিয়র’ সালেহার শরণাপন্ন হন আফরোজা। আর এভাবেই অবৈধ দখল করা স্কুলের জমি দখলমুক্ত করার কাজ পান দুজন। সবশেষে সব সমস্যার সমাধান করে দেন এ দুজন।
হাসিঠাট্টার মাধ্যমে একটি বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মামুনুর রশীদ। অশান্তির অন্য পিঠে যে শান্তি থাকে, সেটি বলতে চেয়েছেন নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে। তবে অবৈধ দখলদার, যিনি কিনা স্কুলের এই জমি দখল করতে গিয়ে চারটা খুনও করেছেন, তিনি বা দলের লোক দুই নারীর ঝগড়ার মুখে পালিয়ে যাবেন, সেটি ঠিক বিশ্বাসযোগ্য হয় না। তবে ঘটনার চেয়ে মামুনুর রশীদ সম্ভবত বক্তব্যকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। এ কারণে নাটক হিসেবে মেনে নেওয়া যায়।
বলতেই হবে, নাটকটির বড় প্রাণ সব পাত্রপাত্রীর অভিনয়। সালেহা চরিত্রে ডলি জহুর ও আফরোজা চরিত্রে সম্ভবত শাহনাজ খুশী দারুণ অভিনয় করেছেন। ব্যাপ্তি কম হলেও দখলদারের চরিত্রে এ টি এম শামসুজ্জামানের অভিনয়ও ছিল অনবদ্য। অন্যরাও যথেষ্ট ভালো অভিনয় করেছেন। সব মিলিয়ে নাটকটি উপভোগ্য।


মেঘ ভাঙা রোদ
স্বল্প চরিত্রে বড় বেদনার গল্প নিয়ে নাটক মেঘ ভাঙা রোদ। ঈদে এটিএন বাংলায় প্রচারিত এ নাটকের রচয়িতা মানস পাল। এটি পরিচালনা করেছেন সাইদুল আনাম টুটুল।
রাবেয়া (সাবেরী আলম) কিশোর বয়সে নিক্ষিপ্ত হন যৌনপল্লিতে। একসময় তাঁর গর্ভে আসে মিলি (নাদিয়া)। রাবেয়া যৌনকর্মী হলেও তিনি চান তাঁর সন্তান সভ্য সমাজে আলোর মুখ দেখুক। যৌনপল্লির পাশের দোকানি জুম্মন (জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়)। রাবেয়া তাঁর কোলে তুলে দেন মিলিকে। পালক বাবার ঘরে বড় হতে থাকেন মিলি।
মেঘ ভাঙা রোদ-এ সাংবাদিকের ভূমিকায় দেখতে পাই মীর সাব্বিরকে। শুরুতেই পরিচয় পাই যৌনকর্মীদের ওপর প্রতিবেদনের জন্য তিনি পুরস্কৃত হন। সাংবাদিকের দেখা পাই একটি পুকুরপাড়ে কদলীগাছের তলায়। তিনি তাঁর পুরস্কারের মডেল পরিয়ে দিচ্ছেন মিলির গলায়। অর্থাৎ পরস্পরের মধ্যে প্রেম আছে। না সাংবাদিক মীর সাব্বির, না নায়িকা নাদিয়া—তাঁরা কেউই জানেন না, সাবেরী আলম তাঁদের হবু শাশুড়ি ও গর্ভধারিণী। যৌনকর্মী রাবেয়ার সাক্ষাৎকার সাংবাদিক সাব্বিরের প্রতিবেদনের মূল বিষয়।
তবে পালক বাবা চান, সত্য উন্মোচিত হোক। মায়ের সঙ্গে মিলির দেখা হোক। পরিচয় হোক। আমরা দেখি পার্কে এসে পালক বাবা ও রাবেয়ার সাক্ষাৎ, মিলির ভরণ-পোষণ ও পড়ালেখার টাকা পালক বাবার হাতে রাবেয়াকে তুলে দিতে। এটা মিলির অজানা।
সত্য প্রকাশ হয়। মিলি জানতে পারেন, কে তাঁর মা। মা একজন যৌনকর্মী। তাঁর মাথায় তো পুরো আকাশই ভেঙে পড়ার কথা। কিন্তু না। আকাশের নিচে ঘরের ছাদ ছিল যে! পুরো আকাশটা পড়ল না। মানে, মিলির অভিনয়ে ভেঙে পড়ার সেই যন্ত্রণা আমাদের চোখে পড়ে না। কিন্তু যতটুকু ভেঙে পড়েছিল, তা থেকে উদ্ধারের জন্য বাবা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় মেয়ের কাছে রাবেয়ার করুণ কাহিনি তুলে ধরেন। তাতেই কাফি। নাটকে কত সহজ! যৌনকর্মী মাকে মেয়ে মেনে নেবেন না। সাব্বিরও যৌনকর্মী শাশুড়িকে মেনে নেবেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানতেই হয়। নাটকে যা লেখা আছে। সাবেরী আলম ও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত দরদ দিয়ে চরিত্র দুটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তুলনায় অভিনয়-দক্ষতায় নাদিয়া ও সাব্বির অনেকখানি পিছিয়ে। মানস পালের কাহিনিটা মনে থাকার মতো। তবে কুশীলবদের অভিনয়-দক্ষতা মোটেই ভালো নয়।


লিটল অ্যাঞ্জেল আই অ্যাম ডায়িং
রূপকথার শেষ লাইনে এমনটা প্রায়ই থাকতে দেখা যায়, ‘...অতঃপর তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল।’ কিন্তু বাস্তব জীবন তো এমন নয়ই, ইদানীং নাট্যকার ও পরিচালকের কারসাজিতে নাটকের পাত্রপাত্রীদের জীবনও অত্যন্ত দুঃখময় হয়ে উঠছে। প্রেম, বিয়ে, বিরহ, মান-অভিমান, সাংসারিক জটিলতা, পরকীয়া আর শেষে নায়কের দুরারোগ্য ক্যানসারে মৃত্যুর কারণে বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দার জীবনটাও আজকাল বড্ড কঠিন। এ নাটকেও তেমনই এক কঠিন জীবনের গল্প ফেঁদেছেন নির্মাতা। যে গল্প আমাদের সবার জানা, তবু এই জানা গল্পটাই বারবার শুনতে ইচ্ছে করে কথকগুণে। আর এ ক্ষেত্রে ওয়াহিদ তারেক বেশ ভালো কথক। তিনিই এই নাটকের নির্মাতা। তাঁর সুন্দর নির্মাণগুণেই পুরোনো গল্প আবারও শুনতে (পড়ুন দেখতে) বসে নাটকের পাত্রপাত্রীর দুঃখটা অনুভূত হয়েছে হূদয়ে।
এটা এমনই এক গল্প, যে গল্পে জীবনটা এক ম্যাজিক। তবু এই ম্যাজিকময় জীবনে নিজের সন্তানকে খুশি করতে নতুন নতুন ম্যাজিক শিখতে হয় বাবাকে। তারপর সে অপেক্ষা করে। সপ্তাহের একদিন মেয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে সেই ম্যাজিকের গৃহপ্রদর্শনী। হ্যাঁ, সপ্তাহের এক দিনই। কারণ ওই এক দিন মেয়েকে কাছে পায় সে। মা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি, তারপর নিজের ভাড়াবাড়িতে ওঠার পর বাবার গৃহে অনেকটা বেড়াতেই আসে মেয়ে। সে বেড়ানো যতই দিন যায়, ততই আনন্দময় হয়ে ওঠে। প্রথম প্রথম বাবাকে খুব একটা পছন্দ না হলেও ম্যাজিকের কারণে মামুখী থেকে ধীরে ধীরে বাবামুখী হয়ে ওঠে মেয়ে। বাবার প্রতি ভালোবাসা বাড়তে থাকার সঙ্গে সমানুপাতিক হারে বাড়তে থাকে গলার ক্যানসারে বাবার দ্রুত মৃত্যুর দিকে এগোতে থাকা। অতঃপর নানা ঘটন-অঘনের মধ্য দিয়ে যখন মা সিদ্ধান্ত নেন, সাংসারিক কলহ মিটিয়ে মেয়েকে নিয়ে নিজ গৃহেই ফিরে আসবে, তখন বোঝা যায় এই পরিচালক ‘সুখে-শান্তিতে’ বিশ্বাসী নন। অতএব, জটিলতা একটা হবেই। যেমন ভাবা তেমন কাজ, মা-মেয়ে ঘরে এসে দেখে বাবা চলে গেছে অন্য এক জগতে। দুঃখটা এখানে নয়, অন্যখানে। যখন দেখা যায়, ক্যানসারের কারণে বাকশক্তি হারিয়ে ফোনের এপাশে বসে আছেন বাবা, অন্যপাশে মা-মেয়ে। তারা জানেও না ওপাশের ওই ভালোবাসার মানুষটির কী হয়েছে। চমৎকার এক করুণ আবহ নাটকজুড়ে। সাধারণ একটা গল্পের পরিবেশনায় চমৎকার মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন পরিচালক। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৌটুসী বিশ্বাসের দুর্দান্ত অভিনয়। বাবা চরিত্রে আলিফও ভালো করেছেন। তবে মাঝেমধ্যেই তাঁর একটু অবাবা হয়ে ওঠাকে ক্ষমা করে দেওয়া যায় শেষের দিকে তাঁর কিছু দুর্দান্ত এক্সপ্রেশনের কারণে। ঈদে নাটকটি প্রচারিত হয়েছিল দেশ টিভি চ্যানেলে।


ঈদের টিকিট
কে না জানে, ঈদের আগে বাড়ি ফেরার বাস বা ট্রেনের টিকিট জোগাড় করা কী ঝক্কির ব্যাপার। সদ্য প্রেমে পড়া কোনো আর্টিস্ট ছেলে যদি তার ভালো লাগা মানুষটিকে টিকিট জোগাড় করে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে, তাহলে তা হয়ে ওঠে বাঁচা-মরার লড়াই! বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী (চারুকলা) হয়ে বাসের টিকেট জোগাড় করতে পারবে না, এ কি হতে পারে? কিন্তু হায়! আর্টিস্ট ছেলেটা জানে না, গাবতলীতে কত ধানে কত চাল হয়। ঈদের মাসে বাস টার্মিনালে কতোটা অসহায় হতে হয় মানুষকে, তা সে বুঝতে পারল বাস টার্মিনালে যাওয়ার পরই কেবল।
কালোবাজারে টিকেট সংগ্রহ, ছিনতাইকারীর কবলে পড়া, পুলিশের সঙ্গে কথোপকথন-বিড়ম্বনা সব মিলিয়ে কাহিনি যত এগিয়ে যেতে থাকে, ততোই দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগে, ওরা এবার ঈদে বাড়ি যেতে পারবে তো? শেষ পর্যন্ত অঙ্কনবিদ্যাই সব মুশকিল আসান করে দেয়। যাত্রার দিনেও থাকে তাজ্জব হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা।
আনিসুল হকের লেখা, সকাল আহমেদের পরিচালনায় বিটিভিতে প্রচারিত ঈদের টিকিট নাটকটিতে হাসির খোরাক যেমন আছে, তেমনি আমাদের মাঝে ছড়িয়ে থাকা সমস্যাগুলোও রয়েছে। তিশার অভিনয় ছিল সাবলীল। আনন্দ কিংবা শংকার প্রকাশে তা বোঝা গেছে বেশি করে। মাহফুজ আহমেদ ভালো, তবে কখনো কখনো তাঁর অভিনয় অতি অভিনয়ের দিকে গেছে। পুলিশ, ছিনতাইকারী কিংবা টিকেটের কালোবাজারির ভূমিকায় যারা অভিনয় করেছেন, তারা চরিত্রের দাবি মিটিয়েছেন। নাটকটি ছিল ভাঁড়ামী-বর্জিত।


অরুপার জন্য
এ নাটকে কেবলই ফ্লাশব্যাকের খেলা। জীবন ও ক্যামেরার। নাগরিকজীবনের টানাপোড়েন ফ্রেম থেকে ফ্রেমে ছড়িয়ে পড়ে।
অরুপার জন্য নাটকটির কাহিনি অতি পুরোনো—প্রধান দুই চরিত্র গরিবের ছেলে আর বড়লোকের মেয়ে। হাজার বছর ধরে চলে আসা পুরোনো কাসুন্দি। কিন্তু এই অতি সাধারণ গল্পটিই অনন্য হয়ে ওঠে মেজবাউর রহমান সুমনের বুদ্ধির ছোঁয়ায় আর নেহাল কোরাইশীর অসাধারণ চিত্রগ্রহণে। সব মিলিয়ে এটি ‘উৎকৃষ্ট পণ্যের’ চেয়ে ‘উৎকৃষ্ট শিল্প’ হয়ে ওঠে।
প্রেমিকার বিয়ে হয়েছে অন্য কোথাও। আজ রাতেই সে যাচ্ছে দেশের বাইরে। ১০ মিনিটের জন্য দেখা করার ইচ্ছায় আকুল অভি (ইন্তেখাব দিনার)। শেষ পর্যন্ত অভির অনুরোধে রাজি হয় অরুপা (কান্তা মাসউদ)। ফ্লাশব্যাকের খেলায় দুলতে দুলতে দুজনের দেখা হয়। কথাও হয় অল্পস্বল্প। অরুপা ‘টুকটাক’ জিনিসের একটি গিফট প্যাকেট ধরিয়ে দেয় অভির হাতে। শেষ উপহার হিসেবে অভি নিয়ে এসেছিল অল্পমূল্যের একটিমাত্র ফুল, যা আর অরুপাকে দেওয়া হয়ে ওঠে না, লুকিয়ে ফেলে। এবার বিদায়। ফিরে যেতে পা বাড়ায় দুজনই। ফিরে তাকায়। দৃষ্টি-বিনিময়। আচমকা দুর্ঘটনা (সম্ভবত গাড়িচাপা পড়ে অভি)। রক্তাক্ত হাতের ক্লোজ শট। জনতার হট্টগোল। একটি পরিত্যক্ত ফুলে এসে ক্যামেরা ফ্রিজ হয়। নাটকের শেষ ফ্রেম। এক গভীর শূন্যতা এসে দর্শকহূদয়ে দোলা দেয়। দর্শক হিসেবে আমার মায়া হয় অরুপার জন্য, অভির জন্য। আসলে মায়া হয় নিজের জন্যও। মনে হয়, মানুষ তো কেবলই ভুল মানুষ।
পড়ে থাকা ছিন্ন ফুলটিই হয়ে যায় দুজনের সম্পর্কের প্রতীক। একটি সম্পর্ক এবং একটি জীবনের সমাপন। অভির মৃত্যু হলো কি না, তা অবশ্য জানা যায় না। অথবা জানার প্রয়োজন হয় না। ছোটগল্প হয়েই থাকে সে রহস্য। দর্শকহূদয়ে বিশাল এক হাহাকার সৃষ্টি করে নাটকটিই শেষ হয়।
অরুপা চরিত্রে কান্তা মাসউদ এবং অভি চরিত্রে ইন্তেখাব দিনার সাবলীল ও প্রাণবন্ত অভিনয় করেছেন। কাহিনি, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা ও পরিচালনা—চারটি কাজই নিখুঁতভাবে করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন। তাঁকে অভিবাদন। নাটকটি প্রচারিত হয়েছে এনটিভিতে।


জিনের বাদশা সরফরাজ
ছিলেন বাদশা। বনে গেলেন ‘হুকুমের গোলাম’। ষড়যন্ত্রকারীদের পাল্লায় পড়ে প্রদীপের ভেতর বন্দী হয়ে আছেন জিনের বাদশা সরফরাজ। মানসম্মান যাকে বলে, একদম ধুলোয় গড়াগড়ি। প্রদীপের মালিকের হুকুম তামিল না করে কোনো উপায় নেই সরফরাজের। বড়সড় ভজকটটা বাধল তখনই, যখন প্রদীপ গিয়ে পড়ল তিন দুষ্ট লোকের হাতে। প্রদীপে ঘষা দিয়ে সরফরাজকে হাজির করেই তাদের পয়লা আদেশ—বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে সব টাকা এনে দেওয়া চাই। কিন্তু সরফরাজ হাজার হলেও বাদশা মানুষ। এমন মহা অন্যায় তিনি করেন কী করে? মহা কেলেংকারি! স্রেফ ভাগ্যের জোরে সে যাত্রা তিন বদমাশের কাছ থেকে প্রদীপটা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান সরফরাজ। পাকেচক্রে সেই প্রদীপ গিয়ে পড়ল ছোট্ট মিতু আর তার সঙ্গীদের হাতে। এদিকে তিন পাঁজির পা ঝাড়া কিন্তু প্রদীপের আশা ছাড়েনি। সরফরাজকে বাগে আনার জন্য ভয়ংকর সব ফন্দি আঁটতে থাকে তারা। এরপর কীভাবে সরফরাজ মুক্তি পেলেন প্রদীপের অভিশাপ থেকে—এই নিয়ে নাটকের বাকি কাহিনি।
টেলিভিশনে এই এক ঈদে নাটকের সংখ্যা গুনে শেষ করা মুশকিল। কিন্তু এত সবের ফাঁকে বাচ্চাদের মুগ্ধ করার মতো অনুষ্ঠান কই? ‘শিশুতোষ’ অনুষ্ঠান আর শিশুদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান যে এক নয়, সেটা আমাদের অনেক চ্যানেলকর্তাদের কাছেই সম্ভবত অদ্যাবধি পরিষ্কার নয়। নয়া জামা-ফ্রক গায়ে, জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে, এপাশ-ওপাশ দুলে দুলে একটা গান। শিশুদের আনন্দ দেওয়ার আয়োজন বলতে কেবল এই? বড়রা শিশুদের বোকা ভাবতে পারেন। কিন্তু আদতে তো তা নয়। নয় বলেই হয়তো ভিনদেশি হ্যারি পটার, লর্ড অব দ্য রিংস কিংবা শ্রেক বলতে বাচ্চারা অজ্ঞান। মুহম্মদ জাফর ইকবালের রচনা এবং মোরশেদুল ইসলামের পরিচালনায় এনটিভিতে প্রচারিত জিনের বাদশা সরফরাজ সেদিক থেকে আলাদা। সেই পুরোনো প্রদীপের কাহিনি ঘিরে হলেও গল্পটা বেজায় অভিনব। যথেষ্ট উত্তেজনা আছে। আছে মজার উপাদানও। তিন শিশু অভিনেতাকেই মনে হয়েছে সম্ভাবনাময় আর চটপটে। জিনের বাদশার বেশে আহমেদ রুবেল বেশ মানিয়ে গেছেন। তবে সেরা অভিনয়টা করেছেন ফককু আর বদি চরিত্রের দুই অভিনেতা। বিশেষ করে মাথায় মোরগঝুঁটি বাঁধা অভিনেতা দুর্দান্ত। নাটকের শেষের একটা মজার দৃশ্য দিয়ে শেষ করি। অপকর্মের শাস্তিস্বরূপ তিন বজ্জাতকে গাছের মগডালে ঝুলিয়ে রেখে গেছেন জিনের বাদশা সরফরাজ। এই অতীব বিচিত্র ঘটনা দেখতে মহা উৎসাহে জড়ো হয়েছে আমজনতা। দারুণ!


অনাকাঙ্ক্ষিত
আমি ‘মেসেজ’সম্পন্ন ছবি তৈরিতে আগ্রহী নই।...চলচ্চিত্র আসলে এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু— অ্যাপিচাটপং ভিরাসেথাকুল (কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণ পামজয়ী থাই পরিচালক) সদাচরণ আর পরোপকারিতার কোনো বিকল্প নেই। এই মহান উপদেশবাণী মাথায় রেখেই এক অর্থে পুরো নাটক। এটিএন বাংলায় প্রচারিত মাসুম রেজার লেখা সৈয়দ আওলাদের তৈরি নাটক অনাকাঙ্ক্ষিত। নাট্যকারের (তৌকীর আহমেদ) মুখেই গল্পটা শুনিয়ে ‘নাটকের মধ্যে নাটক’-এর মতো করে শুরুটা অভিনব করার চেষ্টা আছে বটে। কিন্তু সেই চেষ্টা মোটেও মনে দাগ কাটে না পুরো ব্যাপারটা ‘অভিনয় অভিনয়’ খেলা মনে হওয়ার কারণে। নাটকের তিন অভিনেতার (আবুল হায়াত, তৌকীর আহমেদ, তারিন) তিনজনই অভিনয় করেছেন দ্বৈত ভূমিকায়। ছোট করে গল্পটা বলি—
স্ত্রী (তারিন) অসুস্থ। চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে টাকা-পয়সার জোগাড়যন্তর নেই কোনো। সব মিলিয়ে মন-মেজাজ খুব খারাপ স্বামীর (তৌকীর)। এর মধ্যে শুরু হয়েছে পাশের বাড়ির প্রবীণ ভদ্রলোকের উৎপাত। দুটো কাঁচামরিচ কিংবা সিগারেট ধার করার মতো নানা অছিলায় খানিক পরপরই দোরঘণ্টি বাজিয়ে চলেছেন তিনি। স্বামী বেচারা বিরক্তির একশেষ। কিন্তু স্ত্রীর সুপরামর্শে হাসিমুখে এই অত্যাচার মেনে নেন স্বামী। শেষ পর্যন্ত এই চূড়ান্ত ভদ্র ব্যবহারেরই দারুণ একটা পুরস্কার মেলে। লটারিতে ৩০ লাখ টাকা পুরস্কার জেতেন প্রবীণ ভদ্রলোক। সেখান থেকে এক লাখ টাকা তিনি সামান্য ‘সিগারেট’-এর প্রতিদান হিসেবে তুলে দেন স্বামীর হাতে।
বহু পুরোনো সেই ঈশপের গল্পের ঢঙে শেষতক একটি বিশেষ মর্ম বা উপদেশবাণী তুলে ধরতে পারাটাই কি টিভি নাটক বা চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সার্থকতা? মনে হয় না। সবচেয়ে নবীনতম শিল্পমাধ্যম হিসেবে পরিচিত চলচ্চিত্র এর মধ্যে এগিয়ে গেছে অনেক দূর। পথনাটক বা মঞ্চনাটক থেকে টিভি বা চলচ্চিত্রের ফারাকটাও তাই এখন বেজায় বড়। কেবল ‘মেসেজ’সম্পন্ন টিভিনাটক তৈরি করে আত্মতুষ্টিতে ভোগার দিনও তাই সম্ভবত ফুরোতে চলল। নাটকটা তার পরও অনেকের ভালো লাগতেই পারে। আবুল হায়াত পরিচালকের চরিত্রে মানানসই না হলেও পাশের বাসার প্রবীণ ভদ্রলোক হিসেবে তাঁর জায়গা থেকে সফল। আর ‘মেসেজ’সম্পন্ন নাটকের ভক্ত যাঁরা, তাঁরা হয়তো এই নাটক ‘মিস’ করতে চাইবেন না কিছুতেই।


ব্রেকিং নিউজ
স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর প্রতিটি সরাসরি অনুষ্ঠানে সাধারণত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বকে হাজির করা হয়। তবে এ ধরনের অনুষ্ঠানে দর্শকের সরাসরি ফোনে অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থারও অবতারণা হয়। ঈদে আরটিভিতে প্রচারিত ইফতেখার আহমেদ ফাহমির রচনা ও পরিচালনায় ব্রেকিং নিউজ নাটকটি দেখতে বসে মনে হলো, এটি সেই ভাবনারই অংশ। যদিও হিন্দি নায়ক ছবির (অনিল কাপুর, অমরেশ পুরী, রানি মুখার্জি অভিনীত) প্রেক্ষাপটও অনেকটাই এ রকম। ওই ছবিতে অনিল কাপুর একজন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক। তিনি একটি সরাসরি অনুষ্ঠানে ভারতের মুখ্যমন্ত্রী অমরেশ পুরীর মুখোমুখি হন। মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন দুর্নীতির চিত্রও জনগণের সামনে তুলে ধরেন। চিন্তাভাবনার দিক থেকে হিন্দি চলচ্চিত্র নায়ক এবং নাটক ব্রেকিং নিউজ-এ অনেকটা সাদৃশ্য থাকলেও গল্প বলার ধরন ছিল পুরোপুরি আলাদা। তাই ফাহমিকে নকলের দায় থেকে মুক্ত করে ব্রেকিং নিউজ-এ যাই।
সমাজসেবক তোজাম্মেল হোসেন একটি টিভি চ্যানেলের সরাসরি অনুষ্ঠান ‘তারকালাপ’-এ আসেন। সঞ্চালক বিন্দুর মুখোমুখি হন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান থাকা সত্ত্বেও তিনি পর্দার আড়ালেই ছিলেন এত দিন। এবারই প্রথম তিনি দর্শকের সামনে হাজির হয়েছেন। আর তাতেই যেন বিপত্তি ঘটল। বাচ্চু নামের একজন দর্শক সরাসরি ফোন করে নাটকীয়ভাবে মোজাম্মেল হোসেনের মুখোশ উন্মোচন করে দিলেন। বাচ্চুর মতো আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীও ফোনে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। দর্শক জানতে পারল, সমাজসেবকের আড়ালে এই মোজাম্মেল একজন আদম ব্যবসায়ী ও প্রতারক।
মোজাম্মেল হোসেনের চরিত্রে শহীদুজ্জামান সেলিম, সঞ্চালক বিন্দু ও বাচ্চু চরিত্রে আ খ ম হাসান দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। প্রযোজকের ভূমিকায় সংগীত পরিচালক ফুয়াদকেও বেশ মানিয়ে গেছে।
ইনডোর দৃশ্যে উতরে গেলেও আউটডোর দৃশ্যায়নে ক্যামেরার কাজ কখনো কখনো দুর্বল মনে হয়েছে। আবহসংগীত ভালো হয়েছে।


কাঁটা
শহীদুল জহিরের কাঁটা গল্পটির রহস্যময়তা ছড়িয়ে ছিল পুরো নাটকে। একই নামের এ নাটকটি তৈরি করেছেন অনিমেষ আইচ। পুরান ঢাকার একটি গলিতে (শহীদুল জহিরের লেখায় সেটা ভজহরি সাহা স্ট্রিট বা ভূতের গলি) কিছু রহস্যময় ঘটনার বয়ান এই নাটক। এই গলির বাসিন্দারা মনে করে, তারা একটি চক্রাবর্তের ভেতর আটকা পড়ে গেছে। গল্পে আছে একাত্তর, আছে বাবরি মসজিদ ভাঙার ঢেউয়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতা। আর আছে ২০১০। এই সালটির কোনো নির্দিষ্ট মানে নেই, সেটা ২০২০ হতে পারে, হতে পারে ২০৩০ কিংবা অন্য কোনো সাল। এটা শুধু মনে করিয়ে দেওয়া, একই ঘটনা ঘটতে পারে যেকোনো সময়ই। সচেতন না হলে বাছবিচারহীন হয়ে নৃশংসভাবে মনুষ্য-নিধনের ব্যাপারটি মুড়ি-মুড়কি খাওয়ার মতো ব্যাপারে পরিণত হতে পারে।
একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পুরান ঢাকার একটি গলিতে রাজাকারদের লম্ফঝম্ফ ফুটিয়ে তুলেছেন অনিমেষ। এখানে ইমাম হিসেবে মামুনুর রশীদের অতি-অভিনয় করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল, কিন্তু সে লোভ সামলেছেন বলে ধন্যবাদ পেতে পারেন তিনি। কুলসুম নামের মেয়েটি, যে কিনা এই গলির প্রথম শহীদ, তাঁর পরিচিতি দিতে গিয়ে গল্পকার বলেছেন, ‘প্রায় স্বাধীন নারী এবং তার বয়স ছিল চলতে-ফিরতে ছলকানোর মতো।’ অনিমেষ অবিকল সেই মেয়েটিকেই এনে হাজির করেছেন তাঁর নাটকে। ভালো অভিনয় করেছে মেয়েটি। তবে রাজাকারদের কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখার সময় মুখে চামচ রেখে সেই চামচে মার্বেল দেওয়ার (সেই মার্বেলও একালের প্লাস্টিকের মার্বেল, মোটেই ‘গুল্লি’ খেলার মার্বেল নয়) বিষয়টিতে হাস্যরস হয়তো আছে, কিন্তু তা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। রাজাকারদের নিষ্ঠুরতার বিপরীতে তাদের নিয়ে রসিকতা কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা উচিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করছেন বা করবেন এমন নির্দেশকদের। এ ধরনের দৃশ্য নির্দেশকের পরিমিতিবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
পুরান ঢাকার আবহটি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন অনিমেষ আইচ। স্বপ্নার ভূমিকায় অভিনয় করা মেয়েটির চোখে-মুখে ফুটে ওঠা অসহায়ত্ব, আতঙ্ক প্রাণ ছুঁয়ে যায়। শহীদুজ্জামান সেলিম ও মোশাররফ করিম তাঁদের অভিনয়ে সাবলীল। পাকিস্তানি সেনা, রাজাকারদের দাপটে অসহায় সাধারণ মানুষের ভয়ার্ত চেহারা, স্বাধীন দেশেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়ার ভাষায় তৃপ্ত হয় দর্শকমন। তবে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর সুবোধ (মোশাররফ করিম) মিষ্টি কিনে এনেছেন এবং মনের সুখে খেয়েছেন, এ রকম একটি ঘটনা গল্পে ছিল, যার কোনো শক্তিমান কথক ছিল না, বাড়ির চাকরবাকরদের কারও মুখ থেকে শোনা এ ঘটনার রেশ ধরে সুবোধের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া—এ বিষয়টি নাটকে থাকলে ভালো হতো বলে মনে হয়।
তার পরও বলতে হবে, নাটকের কোনো চরিত্রকেই হেলাফেলা করেননি নির্দেশক। ঢাকাইয়া ভাষার প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছেন অভিনয়শিল্পীরা।
যে নাটক শেষ হলেই ভুলে যাওয়া যায়, এবার ঈদে দেশ টিভিতে প্রচারিত কাঁটা ঠিক সে ধরনের নাটক নয়। নাটক শেষ হওয়ার পরও তার অনুরণন নিবিড়ভাবে প্রচ্ছন্ন থাকে মনে। অনিমেষ আইচ সেই আবহ সৃষ্টি করতে পেরেছেন।


হারানো সুর
ফজলুর রহমান বাবু পেশায় কুমার। আবার বাঁশের বাঁশিও তৈরি করেন। বাঁশি বাজানও তিনি। স্ত্রী স্বাগতার সঙ্গে অম্লমধুর সম্পর্কটা বোঝা যায়। তবে সংসারের আয়ের জন্য তেমন কিছু করেন না বাবু, তা নিয়ে ক্ষোভ স্বাগতার মনে। আবার বাবুর বাঁশির সুর তাকে টানেও বেশ। এভাবেই এগিয়ে চলে চ্যানেল আইতে প্রচারিত হারানো সুর নাটকটি। একদিন বাবুর এক বন্ধু আ খ ম হাসান আসে বাড়িতে। বন্ধুটিও বাঁশি বাজায়। বাবু বাড়ি নেই, বন্ধু বাঁশি বাজাচ্ছে—স্বাগতা তার মধ্যে দেখতে পায় কৃষ্ণের রূপ। তার কাঁধে মাথা রাখে। ভুল বুঝে হাসান স্বাগতার ওপর জোর খাটাতে চায়। স্বাগতা দা দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় হাসানকে। বাড়ির উঠোনে চলে আসা মা রানি সরকারকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। এরপর একদিন স্বামীকে জানায়, সে চলে যাবে তীর্থে। বাবু বাজাতে থাকেন বাঁশি।
গিয়াসউদ্দিন সেলিমের হারানো সুর নাটকে আলো-আঁধারির চিত্রায়ণ চোখে পড়ার মতো। চমৎকার কিছু দৃশ্যায়ন দেখা গেছে নাটকটিতে। তবে মাঝেমধ্যেই কুমার পরিবারে বা অন্যদের প্রমিত বাংলার সংলাপ কানে লাগে। স্বাগতার রূপসজ্জাও দু-এক জায়গায় চরিত্রের সঙ্গে মানায় না। বাঁশি দিয়ে শুরু, বাঁশি দিয়েই শেষ হয় নাটক। বাঁশিতেই যেন বেজে ওঠে হারানো সুর। 

'অন্নপূর্ণা' নামের সপ্তম প্রজন্মের সুপার কম্পিউটার তৈরি করেছে ভারত। সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে এই সুপার কম্পিউটারটি তৈরি করেছে চেন্নাইয়ের দ্য ইনস্টিটিউট অব ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সেস (আইএমএসসি)। ভারতের আণবিক কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে সুপার কম্পিউটারটি উদ্বোধন করেন। ১.৫ টেরাবাইট মেমোরি এবং ৩০ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার সুপার কম্পিউটারটি আইএমএসসি'র বিভিন্ন ধরনের বায়োলজিক্যাল গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হবে।

সৌজন্যে : দৈনিক কালের কণ্ঠ

কম্পিউটারের চেয়ে এবার স্মার্টফোন হ্যাকিংয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে হ্যাকাররা। আর এ কারণেই সারা বিশ্বে বাড়ছে স্মার্টফোন হ্যাকিং, জানিয়েছে মোবাইল নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান লুক আউট। লুক আউটের প্রতিষ্ঠাতা জন হেরিগ জানান, হ্যাকাররা ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্যসহ ব্যক্তিগত তথ্যাদি নেওয়ার জন্যই সাইবার আক্রমণ চালায়। ব্যবহারকারীরা বর্তমানে এসব তথ্য কম্পিউটারে রাখার চেয়ে স্মার্টফোনেই বেশি রাখছে। আর এ কারণেই হ্যাকাররাও তাদের লক্ষ্য বদল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কম্পিউটারে ভাইরাস ছড়িয়ে হ্যাক করার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে হ্যাকাররা। অন্যদিকে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা হ্যাকিং সম্পর্কে তেমন সচেতন না হওয়ায় খুব সহজেই হ্যাকাররা স্মার্টফোন হ্যাক করতে পারছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার ফলেও ব্যবহারকারীদের হ্যান্ডসেটের গোপন তথ্য চলে যাচ্ছে হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে। বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোনো সাইট থেকে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছে লুক আউট।

সৌজন্যে : দৈনিক কালের কণ্ঠ

ইউটিউবে ভিডিও আপলোডের সময় আরো পাঁচ মিনিট বৃদ্ধি করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে ব্যবহারকারীরা এখন সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট সময়ের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। এতদিন ইউটিউব ব্যবহারকারীরা ১০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ভিডিও আপলোড করতে পারতেন।
নতুন এ সুবিধা চালু করে ইউটিউবের পণ্য ব্যবস্থাপক জশুয়া সায়গল বলেন, 'অনেক দিন ধরেই ব্যবহারকারীরা ইউটিউবে দীর্ঘ ভিডিও আপলোডের সুযোগ দেয়ার দাবি করে আসছিলেন। কারিগরি কারণে আমরা এটা করতে পারিনি। কিন্তু বর্তমানে আমরা আমাদের কারিগরি সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠেছি।'


বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কম্পিউটারবিজ্ঞানী জাভেদ করিম এবং তাঁর দুই বন্ধু মিলে ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব তৈরি করেছিলেন। ২০০৬ সালে ১৬৫ কোটি ডলারের বিনিময়ে এটি কিনে নেয় গুগল।

সৌজন্যে : দৈনিক কালের কণ্ঠ

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রাদেশিক সরকারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সৃজনশীল সফটওয়্যার তৈরির প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় সেরা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী ছয়জন বাংলাদেশি প্রোগ্রামার। ‘অ্যাপ মাই স্ট্যাট’ নামের এ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি তথ্যভান্ডারকে কাজে লাগিয়ে জনসাধারণের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডের সহযোগী অথবা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে সহায়ক সৃজনশীল সফটওয়্যার তৈরি করা। বাংলাদেশি ছয়জন প্রোগ্রামার শহীদ, শায়লা, রুনা, কামরুল, তানভীর ও সৈকতের তৈরি ‘রিমাইন্ড এনিওয়ে (আরএডব্লিউ—র)’ নামের সফটওয়্যারটি জিতে নেয় সেরার পুরস্কার। ছয়টি মূল বিভাগের মধ্যে জনপ্রিয় (পপুলার চয়েস) বিভাগে পুরস্কার জিতেছে আরএডব্লিউ সফটওয়্যারটি। মেলবোর্নে চূড়ান্ত পর্বের অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে দলটি পেয়েছে ১০ হাজার ডলার পুরস্কার।
পুরস্কারজয়ী প্রোগ্রামাররা ই-মেইলে প্রথম আলোকে জানান, মোবাইল ফোনের জন্য গুগলের অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েডে ব্যবহার উপযোগী এ সফটওয়্যার প্রাত্যহিক নানা ধরনের কাজকে অনেক সহজ করে দেবে। নির্মাতারা সফটওয়্যারটিতে ভিক্টোরিয়া এলাকার সব স্থাপনাকে আরএডব্লিউর সার্ভারে রেখেছেন, যাতে মোবাইলের গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের (জিপিএস) মাধ্যমে তালিকা অনুযায়ী কাজের অনুসন্ধানও পাওয়া যাবে। এমন সব সুবিধা দেখে প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন সফটওয়্যারের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হয়েছে আরএডব্লিউ সফটওয়্যারটি। ভবিষ্যতে জনপ্রিয় গুগল ক্যালেন্ডারের সঙ্গে আরএডব্লিউর সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা।প্রতিযোগিতার বিস্তারিত জানা যাবে www.premier.vic.gov.au/app-my-state ওয়েবসাইটে এবং সফটওয়্যারের বিস্তারিত www.remindanyway.com ঠিকানায়।

সৌজন্যে : দৈনিক প্রথম আলো

প্রায় ১০ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়েছে। রন বোয়েলস নামে একজন অনলাইন নিরাপত্তা পরামর্শক এসব ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি এসব ব্যবহারকারীর ফেসবুক প্রোফাইল স্ক্যান করতে ও তথ্য সংগ্রহ করতে একটি বিশেষ সংকেত ব্যবহার করেছেন। তবে বোয়েলস সেসব গ্রাহকের তথ্য ও ছবি প্রকাশ করেছেন, যারা তাদের তথ্য প্রাইভেসি সেটিং ব্যবহার করে লুকিয়ে রাখেননি। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য সাধারণত অন্য কেউ দেখতে পারেন না। কেউ যদি চান তবেই অন্যরা তাঁর তথ্য ও ছবি দেখতে পারেন।

এখন ১০ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর বিস্তারিত তথ্য ও ছবি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফাইল আদান-প্রদান করার ওয়েবসাইট পাইরেট বেতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে ওয়াচডগ প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা সিমন ডেভিস জানান, এ রকম ঘটনা ঘটতে পারে বলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল। কিন্তু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেও তারা প্রতিরোধমূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ডেভিস বলেন, ‘প্রাইভেসি সেটিংয়ের বিষয়টি অনেকেই জানেন না। অনেকে জানলেও এর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন নয়। কাজেই এভাবে গ্রাহকদের তথ্য ও ছবি ফাঁস করাটা ঠিক হয়নি। বিষয়টি গ্রাহকেরা ভালোভাবে নেবে না বলেই আমি মনে করছি। এটা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মারাত্মক লঙ্ঘন হয়েছে।’

সৌজন্যে : দৈনিক কালের কণ্ঠ

শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিশ্বকাপ খেলতে না পারলেও বিশ্বকাপ ফুটবলের সংবাদ দিতে ইয়াহুর সঙ্গে চুক্তি করেছে ডেভিড বেকহাম। ইংল্যান্ড দলের এই তারকা ফুটবলার চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বকাপ ফুটবলবিষয়ক তাঁর মতামত, চিন্তা-ভাবনা ও অনুভূতির কথা লিখবেন ইয়াহুর স্পোর্টস বিভাগের 'ডেভিড বেকহাম চ্যানেলে'। ইয়াহুর সঙ্গে ডেভিড বেকহামের চুক্তির উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইয়াহুর বিপণন বিভাগের প্রধান নির্বাহী এলিসা স্টিলা জানান, 'এ আয়োজনের মাধ্যমে বেকহামের তিনটি বিশ্বকাপ এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে ইয়াহু ব্যবহারকারীদের বিশ্বকাপ ফুটবলবিষয়ক তথ্য জানাতেই আমাদের এ উদ্যোগ।' বেকহাম জানান, 'ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে ইয়াহু আমাকে আমার চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করার সুযোগ করে দিয়েছে।' বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি ইয়াহুর জন্য প্রচারণাও চালাবেন ডেভিড বেকহাম।

সৌজন্যে : দৈনিক কালের কণ্ঠ

ভারতের প্রায় ৬১ কোটি মোবাইল গ্রাহকের দীর্ঘ দিনের দাবির মুখে চালু হচ্ছে ইউনিক মোবাইল নম্বর ব্যবহারের সুবিধা। ভারতের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি বা ট্রাইয়ের চেয়ারম্যান জে এস শর্মা এ ঘোষণা দিয়েছেন। ইউনিক মোবাইল নম্বর ব্যবহারের সুযোগ চালু হলে যেকোনো মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক তাঁর মোবাইল নম্বর এক রেখে অন্য অপারেটরের গ্রাহক হতে পারবেন। গ্রাহক যদি মনে করেন, তিনি ওই নম্বরটি সারা জীবন ব্যবহার করবেন অর্থাৎ ইউনিক নম্বর রাখবেন সেটাও করা যাবে। নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অন্য অপারেটরের গ্রাহক হওয়ার এ সুযোগ ভারতে চালু হবে সেপ্টেম্বর মাসে।

বর্তমানে ভারতে ১১টি মোবাইল ফোন অপারেটর রয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ মানুষ এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে।

সৌজন্যে : দৈনিক কালের কণ্ঠ

ইন্টারনেটে তথ্য কোঁজার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গুগলের মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রোয়েড এবং সদ্য বাজারে আসা অ্যাপলের আইফোন অপারেটিং সিস্টেমের (আইওএস) মধ্যে কোনটি সেরা হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। পরবর্তী প্রজন্মের আইফোন, আইপড টাচ এবং আইপ্যাডের জন্য বিশেষভাবে তৈরি আইওএস ৪ নানা ধরনের সুবিধাসংবলিত। অন্যদিকে অ্যান্ড্রোয়েডের সর্বশেষ সংস্করণ ২.২তেও যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন সুবিধা। এখন চলতি বাজারে সুবিধা এবং বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে কোনটি সেরা, তাই নিয়ে চলছে আলোচনা।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইয়ানকি গ্রুপের পরিচালক কার্ল হাওয়ে বলেন, অ্যান্ড্রোয়েড ২.২ আর আইওএস ৪ একই কাজ করলেও বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে এদের রয়েছে ভিন্নতা। দুটো অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যেই রয়েছে মুক্ত সফটওয়্যারের নানা সুবিধা, মাল্টিটাস্কিং ও ফোল্ডার সুবিধা। তবে ভিন্নতাও কম নয় দুটির মধ্যে। অ্যান্ড্রোয়েড সিস্টেম এইচটিএমএল৫ সুবিধা সমর্থন করলেও আইওএস তা করে না। তবে আইওএস ৪-এ রয়েছে ফেইসটাইম বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে ভিডিও চ্যাটের সুবিধা, যা অ্যান্ড্রোয়েডে নেই। স্মার্টফোনের বাজারে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ব্ল্যাকবেরি, যার বাজার অংশীদারিত্ব ৩৫ শতাংশ। এরপরই রয়েছে আইফোন ২৮ এবং অ্যান্ড্রোয়েড সমর্থিত স্মার্টফোন নয় শতাংশ। আইফোন বিশ্বব্যাপী চলতি বছরে প্রায় চার কোটি এবং আগামী বছর পাঁচ কোটি বিক্রির লক্ষ্য নিয়েছে, যেখানে অ্যান্ড্রোয়েড চালিত ফোন চলতি বছরে এক কোটি ৩৮ লাখ এবং আগামী বছর দুই কোটি ৫০ লাখ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।


সৌজন্যে : দৈনিক প্রথম আলো

উইন্ডোজ ভিসতা এবং উইন্ডোজ সেভেন অপারেটিং সিস্টেমে স্টার্ট মেনুতে রান অপশন থাকে না। উইন্ডোজ সেভেন এবং ভিসতার স্টার্ট মেনুতে রান অপশন যোগ করতে কি-বোর্ড থেকে Windows key চেপে রেখে R চাপুন।এখন রান অপশন আসবে। এখানে gpedit.msc লিখে ইন্টার চাপুন। এখন User Configuration /Administrator Templates অপশনে যান। Start Menu and taskbar অপশনে ক্লিক করুন।এখন ডানে সবার নিচে Add the Run command to the Start Menu অপশনে ডান ক্লিক করে Properties-এ যান। এখন অপশনটি Enable করে Ok দিন। এর পর থেকে স্টার্ট মেনুতে গেলে রান অপশন পাবেন।

সৌজন্যে : দৈনিক প্রথম আলো

অ্যাপলের জনপ্রিয় স্পর্শকাতর মোবাইল ফোন আইফোনের নতুন মডেল উন্মুুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী স্টিভ জবস আইফোন-৪ নামের নতুন ডিজাইনের মোবাইল ফোনটি বাজারে আসার ঘোষণা দেন। নতুন ডিজাইনের এ আইফোনে রয়েছে স্টেইনলেস স্টিলের বাক্স, সামনে ও পেছনে দুটি ক্যামেরা আর ডিসপ্লে পর্দা আগের চেয়ে প্রায় শতকরা ২৪ ভাগ পাতলা। নতুন এ ফোনটি আইফোনের আগের ডিজাইনের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। তবে গবেষকদের মতে, আইফোনের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমছে; যার অন্যতম কারণ হচ্ছে, আইফোনের প্রোগ্রাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে অ্যাপলের কঠিন নিয়ন্ত্রণ-পদ্ধতি।


সম্প্রতি অ্যাপল সানফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ডেভেলপারস সম্মেলনে এ নিয়ন্ত্রণের কথা জানায়। চলতি মাসের ২৪ তারিখে আইফোনের নতুন এ ডিজাইন পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ গিগাবাইটের মডেলের দাম হবে ২৯৯ ডলার এবং ১৬ গিগাবাইটের মডেলের দাম ১৯৯ ডলার হবে বলে জানা গেছে। নতুন মডেলের আইফোনে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের নতুন বৈশিষ্ট্য। স্টিভ জবস বলেন, নতুন এ আইফোনটি সারা বিশ্বের ব্যবহারকারীদের জন্য নানা সুবিধা নিয়ে এসেছে। এ ছাড়া এই সংস্করণে আইফোনের আইওএস নামের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যুক্ত হয়েছে সার্চ ইঞ্জিন বিং, গুগল আর ইয়াহু ব্যবহারের সুযোগ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের বাজারে ব্ল্যাকবেরি ও সিমবিয়ানের পাশাপাশি শতকরা ১৫ ভাগ বাজার আইফোনের দখলে। এ ছাড়া গুগলের মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রোয়েডের শতকরা ১০ ভাগ এবং উইন্ডোজ মোবাইলের শতকরা সাত ভাগ বাজার রয়েছে।

সৌজন্যে : দৈনিক প্রথম আলো


ইন্টারনেটে ডিজিটাল বইয়ের ধারণা সারা বিশ্বে বেশ জনপ্রিয় অনেক দিন থেকেই। বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকেই এমন বই পেতে পারে গ্রাহকেরা। সহজ এই সুবিধার ফলে ইন্টারনেটে গড়ে উঠেছে ডিজিটাল গ্রন্থাগার, যেখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বইয়ের ডিজিটাল সংস্করণ। আমাদের দেশে ডিজিটাল বই সহজলভ্য নয়। তবে এবার খুব ভালো একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সপ্তাহেই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের (প্রথম থেকে নবম শ্রেণী) পাঠ্যবইগুলোকে ডিজিটাল করে ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে। শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো মুদ্রিত বইগুলোর মতোই ডিজিটাল সংস্করণ এখন বিনা মূল্যে ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে।

ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠ্যবই
প্রতিবছরের শুরুতেই নতুন বইয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রচণ্ড আগ্রহ দেখা যায়। বছরের শুরুতে মুদ্রিত বই সব শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছে দেওয়া বেশিরভাগ সময়ই সম্ভব হয় না।আর দেশের শিক্ষার্থীরা নতুন বছরে নতুন শ্রেণীর বই পেলেও প্রবাসী বাঙালিরা এ সুবিধা সহজে পায় না।বইগুলোকে ডিজিটাল করার ফলে সেই সুবিধা এখন হাতের নাগালে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল উদ্দিন এ ব্যাপারে বলেন, ‘ডিজিটাল বই হওয়ার ফলে দেশে-বিদেশে পাঠ্যবই পাওয়া এখন অনেক সহজ হবে। আগে পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে দেরি হতো। বিশেষ করে বিদেশে প্রবাসী শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে বেশ বেগ পেতে হতো। এখন সারা বছর ইন্টারনেটে বইগুলো থাকবে। যার যখন ইচ্ছা ইন্টারনেট থেকে বইগুলো নামিয়ে নিতে পারবে। এই পদ্ধতির ফলে অনেক ছেলেমেয়ে উপকৃত হবে।’
ইন্টারনেটে ডিজিটাল বই প্রকাশ করার পরই এনসিটিবির ওয়েবসাইট ব্যবহারের হার অনেক গুণ বেড়ে গেছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, এই যে একবার ডিজিটাল বইগুলো ইন্টারনেটে রাখা হলো, এরপর শুধু নতুন সংস্করণের সময় কিছু পরিবর্তন করলেই চলবে। মূল কাজটা এবার হয়ে গেল।’
প্রথম থেকে নবম শ্রেণীর মোট ৮৩টি বই এখন ইন্টারনেটে রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বই যুক্ত হবে। পাঠ্যবইগুলো ডিজিটাল হলেও এখন তা শুধু ইন্টারনেটে রাখা হয়েছে। সিডি আকারে এ বইগুলো প্রকাশ করার পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে জানা গেছে।
যেভাবে হলো
এবারই প্রথম প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণীর পাঠ্যবই ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এই ডিজিটাল বইগুলো প্রকাশ করেছে।মুদ্রিত বইকে ডিজিটাল সংস্করণে রূপান্তরের কাজটি করেছে এইচএসটিসি লিমিটেড নামের একটি দেশি প্রতিষ্ঠান। ‘২০০২ সাল থেকে আমাদের দেশে একটি ডিজিটাল গ্রন্থাগার গড়ার চিন্তা মাথায় রেখে কাজ শুরু করি। সে জন্য শুরুতে আমরা সরকারের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সব বইকে ডিজিটাল করার এই কাজটি হাতে নিই’—বললেন এইচএসটিসি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম শোয়েব চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানটি এনসিটিবির প্রকাশিত বইয়ের হুবহু ডিজিটালসংস্করণ পোর্টেবল ডকুমেন্ট ফরম্যাটে (পিডিএফ) তৈরি করা হচ্ছে বলে জানালেন শোয়েব চৌধুরী।

ডিজিটাল বই পাওয়ার উপায়
এনসিটিবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে রাখা ডিজিটাল বই সহজেই নামিয়ে নেওয়া যাবে। এই বই নামিয়ে নিতে www.nctb.gov.bd ঠিকানার ওয়েবসাইটে গিয়ে টেক্সটবুক উইং নির্বাচন করতে হবে। এবার ডাউনলোড উইং থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অথবা মাধ্যমিক শিক্ষা নির্বাচন করে বিভিন্ন শ্রেণী অনুযায়ী বই নামানো যাবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি বই আলাদাভাবে নামিয়ে নেওয়া যাবে সহজেই। ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে বইয়ে ব্যবহূত ফন্ট ও পিডিএফ সুবিধাও পাওয়া যাবে এই সাইটে। সহজে ব্যবহারের জন্য এই সাইটের ডান পাশে প্রতিটি বইয়ের প্রচ্ছদসহ রয়েছে বই নামানোর লিংক। ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনে এখান থেকে বই নির্বাচন করেও নামিয়ে নিতে পারবেন। বই নামানোর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা কিংবা পরামর্শ সাইটের ফিডব্যাক অপশনে পাঠানো যাবে।

ডিজিটাল বই এবং প্রত্যাশা
প্রথমবারের মতো ডিজিটাল বইয়ের এই প্রকাশকে বিশেষভাবে দেখছে অনেক ব্যবহারকারী। বই ইন্টারনেটে রাখার পরপরই পঞ্চম শ্রেণীতে সদ্য উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ নামিয়েছে নিজের সবগুলো বই। তার বাবা রাশেদ আহমেদ পিডিএফ আকারের এই বই নামিয়ে পুরো বই আকারে বাঁধিয়েও এনেছেন। ছাপানো বইয়ের বাইরে এবারই প্রথম এ ধরনের বই পেয়ে উল্লসিত রাকিব জানাল তার ভালো লাগার কথা। নতুন শ্রেণীতে অন্য রকম নতুন বই নিয়ে সারা দিন ব্যস্ত সে—জানালেন তার মা জাহানারা বেগম। ঘরে বসেই এমন সুবিধা পেয়ে খুশি তারা। ‘ইন্টারনেটে বইগুলো রাখার পর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন-চার হাজার বই নামানো হচ্ছে।’ —জানালেন শোয়েব চৌধুরী। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটটি এত বেশিবার দেখা হচ্ছে যে, অনেক সময়ই এর গতি খুব ধীর হয়ে যায়। এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, ওয়েবসাইটটির গতি ঠিক রাখার জন্য ব্যান্ডউইডথবাড়ানো হবে।

প্রয়োজন ইন্টারনেট আর প্রশিক্ষণ
ডিজিটাল বইকে জনপ্রিয় ও কার্যকর করতে অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াতে হবে—অনেকেই এমনটা মনে করেন।প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের যত বেশি ইন্টারনেটের আওতায় আনা যাবে, তত বেশি বাড়বে ডিজিটাল বইয়ের ব্যবহার। সারা বিশ্বে ডিজিটাল বই ব্যবহূত হয় নানাভাবে এবং শুধু ডিজিটাল বইয়ের জন্যও রয়েছে বেশ কিছু ডিজিটাল মাধ্যম। ডিজিটাল মাধ্যমে ডিজিটাল বইয়ের এই শুরুটা বাড়ানো যায় নানাভাবে। শুধু টেক্সট বই নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত করা যায় মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি।বর্তমানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের সিডি কিংবা ডিভিডি ব্যবহারের মাধ্যমে শিখছে শিক্ষার্থীরা। ডিজিটাল বইয়ের এই সুবিধার সঙ্গেও এ ধরনের আয়োজন যুক্ত করা সম্ভব বলেমনে করেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।


এগিয়ে যাওয়ার পথে
ডিজিটাল মাধ্যমে ডিজিটাল বইয়ের এই সুবিধা ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে অনেকখানি। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের কাছাকাছি এই সুবিধা পৌঁছাতে প্রয়োজন ইন্টারনেট, যা সবার দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতে হবে।


বাংলাদেশে গতকাল বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চগতির তারহীন ইন্টারনেট ওয়াইম্যাক্সের যাত্রা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকমিশনের কাছ থেকে ২০০৮ সালে ওয়াইম্যাক্স সেবা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অজের প্রথম ওয়াইম্যাক্স সেবা চালু করল।অজের ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিএল) কিউবি (www.qubee.com.bd) নামে ওয়াইম্যাক্স সেবা দেবে। গতকাল রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে এবিএলের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা রাসেল টি আহমেদ বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, মিরপুর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও উত্তরার আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্য কিউবি সুবিধা চালু করা হয়েছে। অচিরেই কিউবি সুবিধা সারা বাংলাদেশে পাওয়া যাবে।’ কেক কেটে কিউবি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

সম্মেলনে নতুন প্রযুক্তির ওয়াইম্যাক্সের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। এ সুবিধা চালুর পাশাপাশি রাজধানীর গুলশান এলাকায় এবিএলের নিজস্ব দোকান কিউবি ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালুর ঘোষণাও দেওয়া হয়। আবাসিক ও ব্যবসায়িক সংযোগের জন্য শুরুতে দুটি প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে ৫১২ কিলোবাইট (কেবিপিএস) গতির ইন্টারনেট সুবিধার জন্য প্রতি মাসে তিন হাজার ৪০০ টাকা এবং প্রতি সেকেন্ডে ১ মেগাবাইট (এমবিপিএস) গতির ইন্টারনেটের জন্য প্রতি মাসে ছয় হাজার ২০০ টাকা দিতে হবে। এই ইন্টারনেট সংযোগের জন্য গ্রাহককে সাত হাজার টাকায় একটি ওয়াইম্যাক্স মডেম কিনতে হবে।

কিউবির প্রচারণার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে বুথ বসানো হয়েছে। আগামী মাসের শুরুর দিকে রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও এই ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি অচিরেই আরও কিছু অফারের মাধ্যমে খরচ কমানো হবে বলেও সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে এবিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেরি মবস বলেন, এই ওয়াইম্যাক্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ সত্যিকারের ইন্টারনেট সুবিধা পাবে।

সৌজন্যে : দৈনিক প্রথম আলো

বনভূমি সংরক্ষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে শুরু হতে যাওয়া একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট গুগল। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি গুগল আর্থ সাইটের মাধ্যমে এই প্রকল্পে সরবরাহ করা হবে। ‘গ্রুপ অন আর্থ অবজারভেশন (জিইও)’-এর উদ্যোগে শুরু হতে যাওয়া এই প্রকল্পে গুগল ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, জাতিসংঘের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের (যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, ভারত, ইতালি ও ব্রাজিল) মহাকাশ গবেষণা সংস্থাও রয়েছে।

কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবির মাধ্যমে বনভূমির পরিমাণ ও গাছপালায় কী পরিমাণ কার্বন জমা আছে, তা বিশ্লেষণ করা হবে। উদ্ভিদদেহে প্রচুর পরিমাণে কার্বন থাকে এবং নিজের খাদ্য প্রস্তুতের জন্য পরিবেশ থেকে গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। গাছ কেটে পোড়ানো বা পানিতে ভিজিয়ে পচানো হলে এতে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড ইত্যাদি হিসেবে অবমুক্ত হয়। নির্বিচারে বৃক্ষনিধন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের হার এক-পঞ্চমাংশ বাড়িয়ে দেয় বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে সবুজের ঘনত্ব দেখে বনভূমির পরিমাণ নির্ণয়ের পাশাপাশি ‘রাডার ইমেজ’ (এক বিশেষ ধরনের ছবি, যাতে কোনো দৃশ্যের কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের দ্বিমাত্রিক ম্যাপিং পাওয়া যায়)-এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার গাছপালায় বিদ্যমান মোট কার্বনের পরিমাণ সম্বন্ধেও ধারণা করা যায়। অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ক্যামেরুন, গায়ানা, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, তাঞ্জানিয়া—এই সাতটি দেশে খুব শিগগির পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। জিইওর নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার বাত্সরিক মোট কার্বনের পরিমাণ নির্ণয় করে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সঙ্গে এর তুলনা করা হবে। এই ধরনের উদ্যোগ প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রেরিত ‘ল্যান্ডসেট’ উপগ্রহের পাঠানো ছবি ব্যবহার করে।

বনভূমি যেকোনো দেশের ফুসফুসস্বরূপ। পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে জিইও, গুগল ও অন্যান্য সংস্থার সম্মিলিত এই প্রচেষ্টা নিশ্চিতভাবেই মানবসভ্যতার জন্য মঙ্গলময় হবে। সবুজ ও দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে গুগলের এই এগিয়ে আসাকে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন স্বাগত জানিয়েছে।

সৌজন্যে : দৈনিক প্রথম আলো

বই বা অন্য কোনো উত্স থেকে স্ক্যান করা লেখার পাতা বা লেখার স্ক্রিনশট ফাইলকে সম্পাদনাযোগ্য লেখার (টেক্সট) ফাইলে রূপান্তর করা যায় ওসিআর (অপটিক্যাল ক্যারেকটার রিকগনিশন) সফটওয়্যার দিয়ে। এ কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু সফটওয়্যার ছাড়াও গুগল ডক্সের মাধ্যমে ইন্টারনেটে এ ধরনের ইমেজ ফাইলকে সম্পাদনার উপযোগী টেক্সট ফাইলে রূপান্তর করে গুগল ডক্সে ব্যবহার করা যায়। এ জন্য http://googlecodesamples.com/docs/php/ocr.php সাইটে গিয়ে সাইন ইন করে Grant access বাটনে ক্লিক করুন। এবার Browse বাটনে ক্লিক করে ফাইলটি নির্বাচন করে Start OCR import বাটনে ক্লিক করুন, তাহলে কিছুক্ষণের মধ্যে এটি গুগল ডক্সে সম্পাদনের উপযোগী হয়ে আসবে। এখান থেকে অনলাইনে সেভ করা বা হার্ডডিক্সে সেভ করা যাবে বিভিন্ন ফরম্যাটে। ইমেজ ফাইল হিসেবে সর্বোচ্চ ১০ মেগাবাইটের এবং ২৫ মেগাপিক্সেলের .jpg, .png, বা .gif ফরম্যাটের ফাইল ব্যবহার করা যাবে। তবে কম রেজুলেশনের ফাইল আপলোড করলে টেক্সটে রূপান্তর না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ইমেজ ফাইলটির রেজুলেশন বাড়িয়ে নেওয়া ভাল।

সৌজন্যে : দৈনিক প্রথম আলো

জীবনযাপনের সবকিছুতেই এখন প্রযুক্তির ছোঁয়া। মানুষের বিনোদনেও দেখা যাচ্ছে উচ্চপ্রযুক্তির ব্যবহার। আর এ কারণে বিনোদন আরও বেশি সহজ এখন। কাজের ফাঁকেও বিনোদন হাতের মুঠোয় প্রযুক্তির কল্যাণে। রাস্তাঘাটে বের হলে ছেলেমেয়ে অনেকের কানেই ইয়ারফোন গোঁজা দেখা যায়। কেউবা শুনছে এফএম বেতারের অনুষ্ঠান, কেউবা শুনছে এমপি থ্রি; মানে ডিজিটাল ফরম্যাটের গান। আবার কেউ কেউ যানজটে আটকে থেকে নিজের ল্যাপটপে পছন্দের ভিডিওটিও দেখে নিতে পারেন। চলার পথে বিনোদনের সঙ্গী এখনকার যন্ত্রগুলো অপেক্ষা করার সময়গুলোতে একটু হলেও প্রশান্তি ছড়াবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মিঞা মোহম্মদ বাচ্চু বললেন, বিকেলে পড়ানোর জন্য ছাত্রের বাসায় যেতে আমার সময় লাগে এক ঘণ্টা। সেই সময়টাতে বিবিসির সংবাদ শুনি এফএম রেডিওর মাধ্যমে। এতে তাঁর অলস সময়ে বিবিসি সংবাদ শোনার মাধ্যমে ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে কাজে লাগে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তামিমা সুলতানা জানান, তিনি বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যাওয়ার সময় বাসে বসে আইপডে তাঁর প্রিয় গানগুলো শোনেন।

চলার পথে বিনোদনের সঙ্গী অনেক ধরনের যন্ত্রপাতি থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে আপনার।

আই-পড
চলার পথের বিনোদনের সঙ্গী হিসেবে আপনি অ্যাপলের আই-পড বেছে নিতে পারেন।দুনিয়াজুড়েই আছে এর জনপ্রিয়তা। এখনকার আই-পড টাচে তো গান শোনা, ভিডিও দেখা, গেম খেলার সুযোগ আছে। আই-পডে একবার চার্জ দিয়ে কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা গান শুনতে পারবেন। বাংলাদেশের বাজারে এক থেকে শুরু করে ২ গিগাবাইট, ৪ গিগাবাইট, ৮ গিগাবাইট, ১৬ গিগাবাইটের আই-পড বেশ চলে। আই-পডের বিক্রি প্রসঙ্গে ঢাকার মেলডি মিউজিক কর্নারের স্বত্বাধিকারী মো. আবু তালেব বলেন, বর্তমানে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা আই-পড বেশি কিনছে। অ্যাপলের দুই গিগাবাইটের একটি আই-পড কিনতে আপনার খরচ হবে আট হাজার টাকা। আর চার গিগাবাইটের দাম ১৪ হাজার এবং আট গিগাবাইটের দাম ২৬ হাজার টাকা। তবে বাজারে নকল আই-পডও আছে। তাই চাই সতর্কতা।

এমপিথ্রি প্লেয়ার
চলার পথে কানে হেডফোন লাগিয়ে আপনি যদি শুধু আপনার পছন্দের গান শুনতে চান তবে আপনি কিনতে পারেন একটি এমপিথ্রি প্লেয়ার। এই যন্ত্রটি এপিথ্রি ফরম্যাটের গান শোনাবে আপনাকে।কিছু কিছু এমপিথ্রি প্লেয়ারের সঙ্গে এফএম বেতারের অনুষ্ঠান শোনার সুযোগও আছে। এর ব্যাটারির চার্জ থাকে অনেকক্ষণ। তাই দূরের যাত্রায় এমপিথ্রি প্লেয়ার বেশ কাজের। বাজারে ব্র্যান্ড এবং নন-ব্র্যান্ড (মূলত চীনে তৈরি, কোনো ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ থাকে না) এমপিথ্রি প্লেয়ার পওয়া যায়।

ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ক্রিয়েটিভ, মাইক্রো ল্যাব, সিএসএম, টুইনমস, অ্যাপাসার, সনি, প্যানাসনিক ইত্যাদি ব্র্যান্ডের এমপিথ্রি প্লেয়ার পাওয়া যায়। এসবের দাম শুরু হয় এক হাজার টাকার বেশি থেকে।

নন-ব্র্যান্ডের এমপিথ্রি প্লেয়ারে কোনো ওয়ারেন্টি থাকে না।একটি নন-ব্র্যান্ডের এক গিগাবাইটের এমপিথ্রি প্লেয়ারের দাম ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। দুই গিগাবাইটের দাম ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। আর চার গিগাবাইটের দাম ১৭০০ থেকে ২২০০ টাকা। ঢাকা কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র দেবাশীষ মজুমদার বলেন, ‘কলেজ থেকে বাসা অনেক দূরে হওয়ায় যাত্রাপথে এটি আমার বিনোদনের সঙ্গী। এটি মজার, ফলে নিজেকে কখনো একাকী মনে হয় না।’

এমপিফোর প্লেয়ার
গান শোনা ও দেখা যায় এমপিফোর প্লেয়ার দিয়ে। এমপিফোর প্লেয়ারে গান শোনা, ভিডিও দেখা, এফএম রেডিও শোনা যাবে আবার গেমও খেলা যাবে। সমস্যা একটাই, ব্যাটারির চার্জ বেশিক্ষণ থাকে না। কম দূরত্বে ভ্রমণের জন্য এমপিফোর প্লেয়ার বিনোদনের ভালো এক মাধ্যম হতে পারে। বাজারে ব্র্যান্ড এবং নন-ব্র্যান্ড উভয়ের এমপিফোর প্লেয়ার পাওয়া যায়। ক্রিয়েটিভ ব্র্যান্ডের একটি দুই গিগাবাইটের এমপিফোর প্লেয়ারের দাম সাড়ে সাত হাজার টাকা। আর চার গিগাবাইটের একটি এমপিফোর প্লেয়ারের দাম সাড়ে আট হাজার টাকা। এ ছাড়া আপনি আরও বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি কার্ড ব্যবহার করে আপনার এমপিফোর প্লেয়ারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারেন। বাজারে প্রচলিত এমপিফোর ব্র্যান্ডগুলো হলো-ক্রিয়েটিভ, মাইক্রোল্যাব, অ্যাপাসার, সনি, স্যামসাং, প্যানাসনিক ইত্যাদি। নন-ব্র্যান্ডের এক গিগাবাইটের এমপিফোর প্লেয়ারের দাম ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। একটি দুই গিগাবাইটের এমপিফোর প্লেয়ারের দাম ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা। আর একটি চার গিগাবাইটের এমপিফোর প্লেয়ারের দাম ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের হাসনাত বলেন, চলার পথে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে এমপিফোর প্লেয়ার অবশ্যই আকর্ষণীয়। তবে সেটি যেন হাঁটার সময় ব্যবহার না করা হয়।বসে ব্যবহার করা উচিত।

এমপিফাইভ প্লেয়ার
চলার পথে শুধু বিনোদন নয়, যদি কোনো কিছুর ছবি তুলেও রাখতে চান তবে কিনতে হবে এমপিফাইভ প্লেয়ার। এমপিফাইভ প্লেয়ারের মাধ্যমে গান শুনতে, গান দেখতে, ছবি তুলতে এবং ভিডিও করতে পারবেন। তবে অনেক এমপিফাইভ প্লেয়ারে ভিডিও করার সুযোগ নেই।ভিডিও করার সুযোগসহ যন্ত্রগুলোর নাম এমপিসিক্স প্লেয়ার। ঢাকার দিদার টেলিকমের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিব উল্লাহ বলেন, এমপিফাইভ ও এমপিসিক্স প্লেয়ারের দাম বেশি হওয়াতে এগুলোর বিক্রি কম।

এফএম রেডিও
শুধু এফএম রেডিও শোনার জন্য আপনি কিনে নিতে পারেন একটি এফএম রেডিও। বাজারে একটি এফএম রেডিও ১০০ থেকে ৪০০ টাকায় পাওয়া যাবে।

মুঠোফোন তো আছেই
গান শোনা, ভিডিও দেখা, ছবি তোলা, এফএম রেডিও, ইন্টারনেটসহ সব সুবিধা এখনকার বেশিরভাগ মুঠোফোনেই আপনি পেতে পারেন। আর কথা বলার প্রয়োজন তো মিটবেই।

মেমোরি কার্ড
বিনোদনের যন্ত্রগুলোয় গান বা ছবির ধারণক্ষমতা বাড়াতে বাড়তি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে একটি ভালো মানের এক গিগাবাইটের মেমোরি কার্ডের দাম ৫০০ টাকা, দুই গিগাবাইট ৮০০ ও চার গিগাবাইটের দাম ১২০০ টাকা। আট গিগাবাইট মেমোরি কার্ডের দাম ২২০০ টাকা। তবে বেশি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মেমোরি কার্ড আপনার যন্ত্রাংশে লাগবে কি না তা আগে জেনে নিন।

ওয়ারেন্টি: বাজারে নন-ব্র্যান্ডের কোনো জিনিসেরই ওয়ারেন্টি পাবেন না। ব্র্যান্ডের কোনো জিনিসের জন্য আপনি এক থেকে তিন বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা পাবেন। তবে অবশ্যই বিক্রেতার কাছ থেকে ওয়ারেন্টি কার্ড ও কার্ডে তারিখ লিখে নিন।

নষ্ট হলে?
নষ্ট হলে আপনি আপনার পাশের ইলেকট্রনিকস দোকানে যোগাযোগ করুন। ঢাকার বিসিএস কম্পিউটার সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালিব প্লাজা, আইডিবি ভবনসহ বড় মার্কেটে এসব মেরামত করা হয়।

সৌজন্যে : দৈনিক প্রথম আলো

অনাকাঙ্ক্ষিত রেল দুর্ঘটনা এবং যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তড়িত্ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের দুই শিক্ষার্থী রাজেশ মজুমদার ও জীবন চন্দ্র ভৌমিক তৈরি করেছেন কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট) নির্ভর ‘ট্রেন মনিটরিং’ ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার ফলে রেল দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব বলেতাঁরা মনে করেন। শুধু তাই নয়, রেলগাড়ি কোথায় আছে তাও জানা যাবে সঠিকভাবে।

এ পদ্ধতি সম্পর্কে নির্মাতারা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেশে টেলিফোনের মাধ্যমে রেলগাড়ির অবস্থান জেনে নেওয়া হয়। অনেক সময় যোগাযোগজনিত ত্রুটির কারণে বা অপারেটরের ভুল বোঝাবুঝিতে দুর্ঘটনা ঘটে। এ ধরনের দুর্ঘটনার মধ্যে ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষই হয় বেশি। এ পদ্ধতির মাধ্যমে সমগ্র দেশের রেলগাড়ির অবস্থান, গতি এবং স্টেশন থেকে কত দূরত্বে আছে তা মুহূর্তের মধ্যে জানা যাবে এবং মানচিত্র আকারে তা দেখাও যাবে।’

গবেষকেরা আরও জানান, সম্পূর্ণ পদ্ধতিটি নিয়ন্ত্রিত হবে একটি গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) এবং একটি ওয়েব সার্ভারের মাধ্যমে। এই জিপিএস ট্রেনের ভেতর বসানো হবে।সেটি কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে সংকেত আদান-প্রদান করে রেলগাড়িটির অবস্থান, গতি ও নির্দিষ্ট স্টেশন থেকে কত দূরত্বে আছে তা হিসাব করে ডেটাবেইসে পাঠাবে।কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে প্রতিটি ট্রেনের প্রতি মুহুর্তের অবস্থান, গতি ও দূরত্ব মানচিত্রে দেখা যাবে। যেহেতু পদ্ধতিটি ইন্টারনেট-ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে, তাই খরচ কম হবে। একটি জিপিএস একটি রেলগাড়িতে বসাতে ১০ হাজার টাকা লাগবে।

জীবন ও রাজেশের এই গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিলেন চুয়েটের তড়িত্ ও ইলেকট্রনিক বিভাগের প্রভাষক নিপু কুমার দাশ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম রেলওয়ের সঙ্গে আমাদের প্রাথমিক কথা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে।’ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ভবিষ্যতে এ দুই প্রকৌশলী বাংলাদেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থায় প্রযুক্তিটি ব্যবহার করতে চান বলে জানিয়েছেন।


সৌজন্যে : দৈনিক প্রথম আলো

Posted by Admin | 4:54 AM

আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, জাহাজভাঙা শিল্পে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ বাংলাদেশ। সস্তা শ্রম আর পরিবেশ আইনের দুর্বল প্রয়োগ আমাদের এ শিল্পকে শীর্ষস্থানে যেতে সাহায্য করেছে। প্রায় ৪০ বছর আগে চট্টগ্রামের সমুদ্রসৈকতে একটি জাহাজ ভাঙার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে জাহাজভাঙা শিল্পের শুরু। বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী বিশ্বের সমুদ্রগামী জাহাজের প্রায় ৬০ ভাগ বাংলাদেশে ভাঙা হয়। প্রত্যক্ষভাবে ৩০ হাজার আর পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ মানুষের আয়-রোজগার এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। জাহাজভাঙা শিল্প থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৯০০ কোটি টাকা কর পেয়ে থাকে। বাংলাদেশের নির্মাণশিল্পে প্রতিবছর যে প্রায় ৮০ লাখ টন রডের দরকার হয়, তার ৯০ শতাংশের জোগান আসে এখান থেকে। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অরগানাইজেশনের নিয়ম অনুযায়ী একটি সমুদ্রগামী জাহাজের আয়ুষ্কাল সর্বোচ্চ ২৯ বছর। এরপর সেটি ভাঙতেই হবে।

বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্পকে ঘিরে এমন আরও অনেক কৌতূহলোদ্দীপক, অজানা ও আশা-জাগানিয়া, মন-খারাপ করা তথ্য দেওয়া আছে www.shipbreak ingbd.info ওয়েবসাইটে। শুধু জাহাজভাঙা শিল্পের খবরাখবর নিয়েই এই ওয়েবসাইট। এ ওয়েবসাইটে একটি সাইটম্যাপ আছে, যেখান থেকে আপনি শুরুতেই জেনে নিতে পারেন ওয়েবসাইটে কী কী আছে। এটি তৈরির ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের সাইটম্যাপ নির্মাণের গতানুগতিক ধারা ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে, এতে নতুনত্ব থাকলেও এটি ওয়েবসাইটের ব্যবহার বাধাগ্রস্ত করেছে। একনজরে পুরো ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানার সুযোগ সীমাবদ্ধ করেছে, বরং সাইটম্যাপ নির্মাণের প্রচলিত ধারা অনুসরণ করে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিষয় ও উপবিষয় দিয়ে এটি সাজালে ভালো হতো।

এ ওয়েবসাইট ঘুরে আসার পর আপনার মন খারাপ হতে বাধ্য। কারণ, স্কুলে পড়তে যাওয়ার বয়সী শিশুশ্রমিকের সংখ্যা জাহাজভাঙা শিল্পে মোট শ্রমিকের ১০ শতাংশের বেশি। বাবার মৃত্যু, নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া আর এনজিওর ক্ষুদ্রঋণ পরিশোধে অভিভাবকের ব্যর্থতা শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজে আসতে বাধ্য করেছে। প্রতিবছর এ শিল্পে দুই অঙ্কের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত বছরও ১৫ জন শ্রমিক কাজ করতে গিয়ে মারা গেছে। আর মারাত্মক ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা বছরে গড়ে তিন শতাধিক। তবে কোনো কোনো বছর একেকটি বড় দুর্ঘটনায় একসঙ্গে ৫০-৬০ জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। যেমন, ২০০০ সালে টিটি ডেনা ট্যাংকার বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ওয়েবসাইটের প্রথম পাতার ‘ফটো’ বোতাম টিপে ৪০টি ছবি পাওয়া যাবে, যেগুলোর মধ্যে শিশুশ্রমিকের কাজ করার ছবিও আছে। তবে এখানে একই ধরনের ছবির সংখ্যা বেশি। জাহাজভাঙা শিল্পকে সামগ্রিকভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য ছবির আরও কার্যকর ব্যবহার এখানে ঘটানো যেতে পারত।

এ ওয়েবসাইটের আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, সাইটটির ভাষা ইংরেজি। এর কোনো বাংলা সংস্করণ নেই। তবে ‘রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন’ বোতাম টিপে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পাবেন, যেগুলোর মধ্যে বাংলায় লেখা প্রতিবেদনও রয়েছে। এগুলো পিডিএফ আকারে থাকায় সহজেই ডাউনলোড করে নিয়ে পড়া যেতে পারে।

এ রকমই একটি প্রতিবেদন হলো ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) প্রকাশিত ‘পর্যালোচনা: বাংলাদেশের জাহাজভাঙা কার্যক্রম’। এ প্রতিবেদনের মুখবন্ধে শিক্ষাবিদ জামাল নজরুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘সচেতনতা ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার অভাবে জাহাজভাঙা কার্যক্রম প্রতিনিয়ত পরিবেশকে করছে মারাত্মক দূষণের শিকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার অভাবে এখানকার শ্রমিকদের অধিকার হচ্ছে চরমভাবে লঙ্ঘিত। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় শ্রমিক হতাহত হওয়া, শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাব, মালিকপক্ষের দায়িত্বহীনতা, শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘন, সার্বিক পরিবেশদূষণ প্রভৃতি জাহাজভাঙা কার্যক্রমের নিত্যঘটনা।’ শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘনের বিষয় জানা যাবে ‘রাইটস ভায়োলেশন্স’ বোতাম টিপে আর ‘এনভায়রনমেন্ট পলিউশন’ বোতাম টিপে পরিবেশদূষণের বিষয়টি বোঝা যাবে।

এ ওয়েবসাইটের একটি ভালো দিক হলো, প্রতি মাসেই সাইটটির বেশির ভাগ পাতা হালনাগাদ করা হয়। কোনো অদ্ভুত কারণে, নাকি ভুল করে ওয়েবসাইটের ‘এক্সটারনাল লিংকস’ ও ‘কনটাক্ট আস’ বোতাম দুটি একসঙ্গে রাখা হয়েছে।


সৌজন্যে : দৈনিক প্রথম আলো

Posted by Admin | 4:50 AM


মো. জাবেদ মোরশেদ চৌধুরী ২০০৭ সালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। এর পরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রকল্পের প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি এরাসমাস মুন্ডাস বৃত্তি নিয়ে সুইডেনে ইন্টারনেটে নিরাপত্তা ও মোবাইল কম্পিউটিং বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

সাফল্য:
মোরশেদ বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় ওয়েব পোর্টাল তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মূল কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তড়িত্ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ইনস্টিটিউশন অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইইইই) কয়েকটি সম্মেলনে তাঁর গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি নতুন ধরনের একটি এনক্রিপশন ব্যবস্থার সম্ভাবনা দেখিয়েছেন, যা বর্তমানের বিভিন্ন এনক্রিপশন পদ্ধতির চেয়ে অনেক দ্রুত। এ ছাড়া তিনি ইউনিকোডভিত্তিক বাংলা এনক্রিপশনের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন। এতে ইন্টারনেটে বাংলা কন্টেন্টর নিরাপত্তা আরও সুরক্ষিত হবে। তিনি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের কোর সদস্য।

ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা:
ভবিষ্যতে ই-কমার্সের জন্য নিরাপদ প্রটোকল ও ইন্টারনেটে নিরাপদ অর্থ আদান-প্রদান নিয়ে কাজ করতে চান মোরশেদ। এ ছাড়া বাংলাদেশে মুক্ত সফটওয়্যারের উন্নয়নে তিনি কাজ করে যেতে চান। মোরশেদের বাবা মোহাম্মদ মতিউর রহমান চৌধুরী ও মা মাসুদা রহমান ব্যবসায়ী। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মোরশেদ তৃতীয়।


সৌজন্যে : দৈনিক প্রথম আলো

সনির নতুন থ্রি-ডি ক্যামেরা

Sony3DCamera1010

ইলেকট্রনিক জায়ান্ট সনি এবার বের করলো নতুন সিঙ্গেল লেন্স ক্যামেরা যার মাধ্যমে থ্রি-ডি ছবি তোলা সম্ভব হবে। প্রচলিত থ্রিডি ক্যামেরায় সাধারণত দুটি ভিউ ফাইন্ডারে ফটোগ্রাফার তার দুই চোখ রেখে ছবি তোলেন কিন্তু এই থ্রি-ডি ক্যামেরায় একটি ক্যামেরাতেই ছবিকে প্রতিফলক আয়নার সাহায্যে দুই ভাগে ভাগ করে দুটি সেন্সরে রেকর্ড করা হবে। এর ফলে প্রচলিত থ্রিডি ক্যামেরার চেয়ে এই ক্যামেরায় ছবি সনির ভাষায় আরো ‘স্মুদ’ হবে। খবর বিবিসির।

জানা গেছে, সনির এই থ্রি-ডি ক্যামেরাটি জাপানের টোকিওতে ‘সি-টেক’ ইলেকট্রনিক শোতে প্রথমবারের মত জনসমক্ষে উন্মুক্ত করা হবে। সনি জানিয়েছে, এই ক্যামেরায় তোলা থ্রি-ডি ইমেজগুলো বিশেষ ভাবে তৈরি পোলারাইজড গ্লাসে দেখা যাবে। এই বিশেষ গ্লাসটি ছাড়া থ্রি-ডি ইমেজ দেখা সম্ভব নয়।

সনির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বিশেষ ভাবে তৈরি এই ক্যামেরা স্পোর্টস ইভেন্টের জন্য বেশি কার্যকর। কারণ হিসেবে তারা জানায়, এই ক্যামেরায় অনেক দ্রুত ছবি তোলা যায় যা স্পোর্টস ইভেন্ট কভার করার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি সনি জানিয়েছে, এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ফুটবল খেলা সম্পূর্ণ নতুন টেকনোলজির থ্রি-ডি ফরমেটে ধারন করবে। এই উদ্দেশ্যে পুরো ফুটবল মাঠকে কভার করতে তিনটি ক্যামেরা বসাবে তারা। এই তিনটি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওগুলোকে একটি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে থ্রি-ডি ভিডিও ফাইলে রূপান-র করা হবে।

সনির জেনারেল ম্যানেজার জন স্টোন এই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে বলেন, এক একটি ক্যামেরা এক তৃতীয়াংশ কভার করবে। তিনটি ক্যামেরাই একই ফোকাল লেংথে সেট করা থাকবে। ফলে তিনটি ভিডিওর সমন্বয় করা সম্ভব হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিটি শটের ডেপথ এবং পিক্সেল খুব দ্র"ত বিশ্লেষণ করে একটি থ্রি-ডি ভিডিও চিত্র তৈরি করবে।

জন স্টোন আরো বলেন, তিনি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন, আলোচিত এই প্রযুক্তিটি এখন যে পর্যায়ে আছে তা পুরো ফুটবল ম্যাচ কভার করার সামর্থ্য অর্জন করতে পেরেছে কি না, তবে তিনি আশাবাদী যে আগামী ২০১০ সাল থেকে স্পোর্ট ইভেন্টগুলোকে লাইভ থ্রি-ডি চেহারাতেই দেখা যাবে।


সৌজন্যে : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর